সার্কুলার ব্যবসা বন্ধ করুন, শিক্ষাক্যাডারদের নয় শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য দিন!

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কোনো কাগুজে প্রতিষ্ঠান নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর আন্দোলন, ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হয়েছে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবির প্রেক্ষিতে। তাই এর মর্যাদা, স্বকীয়তা ও স্বাধীন কাঠামো নিয়ে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা কিংবা টালবাহানা শিক্ষার্থীরা কখনো মেনে নেবে না।
সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে “সংযুক্ত সরকারি ৭ কলেজ” শব্দটি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই “সংযুক্ত” শব্দের আড়ালে কি আবারও অধিভুক্তির পুরোনো কাঠামো ফিরিয়ে আনার কোনো অপচেষ্টা চলছে?
আমরা জানি, একটি শব্দ শুধু শব্দ নয়; পুরো বাক্য ও তার ভাষাগত কাঠামো মিলেই প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করে। তাই শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন হওয়াটা অযৌক্তিক নয়।
আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য—
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ও সাত কলেজ আলাদা কোনো সত্তা নয়।
এটি সাতটি ক্যাম্পাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি অভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়।
সুতরাং ভর্তি সার্কুলারও হতে হবে এক ও অভিন্ন, পরিচয়ও হবে এক ও অভিন্ন, ভর্তি পরীক্ষাও হবে একক ও সমন্বিত।
আমরা কোনোভাবেই “অধিভুক্তির খাঁচায়” ফিরে যেতে চাই না।
কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয় কোনো দয়া, অনুগ্রহ বা প্রশাসনিক করুণার ফসল নয়; এটি শিক্ষার্থীদের রক্ত, আন্দোলন ও আত্মত্যাগের অর্জন।
প্রশ্ন উঠতেই পারে—
বিশ্ববিদ্যালয়ের শত্রুপক্ষ কেন বারবার বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ পাচ্ছে?
আইনের কোথাও কি অস্পষ্টতা আছে?
নাকি শিক্ষা ক্যাডার ও সিন্ডিকেটের চাপ এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে?
শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চায়—
যদি ভর্তি সার্কুলারে অস্পষ্টতা রাখা হয়, যদি আলাদা কাঠামোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়, যদি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা উপেক্ষা করা হয়, তাহলে আবারও রাজপথ উত্তাল হবে।
প্রয়োজনে আবারও আন্দোলন হবে।
কারণ শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত পরিচয় ও মর্যাদার সঙ্গে কোনো আপস করবে না।
আমরা চাই—
শিক্ষাক্যাডারদের নয়, শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া হোক।
সার্কুলার ব্যবসা বন্ধ হোক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মতামত ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক।
মনে রাখবেন—
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কোনো বিভক্ত কাঠামো নয়; এটি সাত ক্যাম্পাসের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়।
এবং এই সত্যকে অস্বীকার করার সুযোগ আর নেই।


— মো: নুর নবী
শিক্ষার্থী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *