সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান কাঠামোর তুলনায় প্রায় সব গ্রেডের মূল বেতন দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতনের ব্যবধান প্রায় ১:৮ রাখা হয়েছে, যা বর্তমানে ১:৯.০৭৬। এতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারী বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতাসহ মাসে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা পর্যন্ত প্রাপ্যতা পেতে পারেন।
প্রস্তাবে গ্রেড-১ কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে গ্রেড-২ এর জন্য ১ লাখ ৩২ হাজার, গ্রেড-৩ এর জন্য ১ লাখ ১৩ হাজার এবং গ্রেড-৪ এর জন্য ১ লাখ টাকা মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া মধ্যম পর্যায়ের গ্রেডগুলোতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রাখা হয়েছে। গ্রেড-৫ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত মূল বেতন ৩২ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে। অন্যদিকে গ্রেড-১১ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত বেতন ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার বেশি পর্যায়ে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য প্রভাব ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করতে গত এপ্রিল মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি কার্যকরের পক্ষে মত দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কমিশনের প্রাথমিক হিসাব বলছে, পুরো প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। তবে একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে কয়েক ধাপে এটি কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এ খাতে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই অতিরিক্ত অর্থের একটি বড় অংশ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে।
তবে বাজেটের এই অতিরিক্ত বরাদ্দ শুধুমাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য নয়। এর মধ্যে নতুন নিয়োগ, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা বৃদ্ধি এবং পেনশনভোগীদের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে বাজেট বরাদ্দ ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি দেখে বিষয়টি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা জোরালো বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।













Leave a Reply