রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩৪) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আজ বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে সে স্বেচ্ছায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে এই জবানবন্দি দেয়। আদালত জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
একই মামলায় হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও (২৬) আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নিখোঁজের এক ঘণ্টার মধ্যে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার পল্লবী এলাকার স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির এক পাটি জুতা দেখতে পেয়ে রামিসার মায়ের সন্দেহ হয়। তিনি ওই ফ্ল্যাটের দরজায় অনবরত ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে একটি কক্ষে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমে একটি বালতির ভেতর তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তদন্ত ও ডিএমপির বক্তব্য:
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মূলত পাশবিক নির্যাতন ও রক্তক্ষরণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই শিশুটিকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল।
স্বামীকে পালাতে সাহায্য করেন স্ত্রী
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ভেতরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও আলামত লোপাটের চেষ্টা চলছিল। মূল ঘাতক সোহেল রানা যেন জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ করে রাখেন। স্বামী পালিয়ে যাওয়া নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল তিনি দরজা খোলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই স্বপ্নাকে আটক করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা উদ্ধার করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক গ্রেপ্তার
ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়া প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে ধরতে অভিযানে নামে পুলিশ। ঘটনার দিন বিকেলেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পল্লবী থানা পুলিশ।
আজ বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীরা তীব্র ক্ষোভ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর এই জঘন্য অপরাধের আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে। এই ঘটনায় পুরো পল্লবী এলাকায় গভীর শোক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


-

বেতন স্কেলে বড় পরিবর্তন, কমছে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের বৈষম্য
by
-

বৃদ্ধা নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩
by
-

পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বৈঠক
by
-

পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যা: প্রধান আসামি সোহেলের আদালতে স্বীকারোক্তি
by
-

নেতৃত্বের দোরগোড়ায় ছাত্রদল: নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিকে ঘিরে উত্তপ্ত আলোচনা
by
-

নববর্ষ উদযাপন ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, সারাদেশে র্যাবের বিশেষ প্রস্তুতি
by
-

নতুন পে-স্কেল: এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির রূপরেখা
by
-

দেশের প্রয়োজনে মাঠে ছিল সেনাসদস্যরা,এখন ধীরে ধীরে ফিরছে ব্যারাকে
by
-

দেশের ইতিহাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়লো নতুন রেকর্ড।
by
-

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক দলিল –
by


Leave a Reply