কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে নদ-নদী বেষ্টিত ও দারিদ্র্যপীড়িত জেলা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত কুড়িগ্রাম। উন্নয়নের নানা সূচকে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে এ জনপদ। বিশেষ করে প্রতি বছর বন্যা ও নদীভাঙনে অসহায় হয়ে পড়ছেন জেলার হাজারো মানুষ। ভেঙে যাচ্ছে বসতবাড়ি, বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি, হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবন-জীবিকা। অথচ এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থাও চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গ্রামীণ জনপদের অসংখ্য রাস্তা কাদামাটি ও খানাখন্দে ভরে থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও এসব সড়কের সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এছাড়াও কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ-এর সৌন্দর্য বর্ধন ও শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়নের দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কলেজ ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল-এ চিকিৎসাসেবার বেহাল অবস্থাও উদ্বেগজনক। হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা। স্থানীয়দের দাবি, একটি জেলার প্রধান হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কুড়িগ্রামের মানুষ।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক তৌহিদ মিয়া বাপ্পি বলেন, “কুড়িগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বন্যা ও নদীভাঙনে মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা-ঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ, চিকিৎসা ব্যবস্থার অবস্থাও বেহাল। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সৌন্দর্য বর্ধনেও দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন। জেলা পরিষদ প্রশাসক জনাব আলহাজ্ব সোহেল হাসনাইন কায়কোবাদ-এর কাছে আকুল আবেদন, তিনি যেন এই অবহেলিত জেলার মানুষের দুর্ভোগের দিকে বিশেষ নজর দেন এবং টেকসই উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে কুড়িগ্রামের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।














Leave a Reply