
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোঃ নুরুল ইসলাম নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য সময় অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত একটি স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে একদিকে একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক সংকট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে, পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো গঠন বিলম্বিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আত্তীকরণ প্রক্রিয়াও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ৫৭তম পাবলিক এবং ৫ম স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংসদীয় অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যা বর্তমানে এক ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
ইতোমধ্যে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রায় সাড়ে নয় হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও তাদের জন্য এখনো নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা এখনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র কিংবা হল আইডি কার্ড পায়নি। নিয়মিত ক্লাস, সাপ্তাহিক ও মাসিক পরীক্ষা—কোনোটিরই নির্দিষ্ট রূপরেখা এখনো স্পষ্ট নয়, অথচ সেমিস্টার পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এতে করে পরপর দুটি সেশন সম্ভাব্য সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।
শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং একটি স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন নিশ্চিত করে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করবে। একইসঙ্গে, একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।
অন্যথায়, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা আবারও আন্দোলনে যেতে বাধ্য হতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
প্রতিবেদক:
মোঃ নুর নবী
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
২০২৪–২৫ সেশন
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি













Leave a Reply