যুদ্ধবিরতি কি আসলেই চলমান নাকি কৌশল অবলম্বন!

আজ ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬, ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন অত্যন্ত সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আজকের প্রধান আপডেটগুলো:

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ:

আজ সকাল থেকেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (Centcom) হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের সব ধরনের সমুদ্র বাণিজ্য বন্ধ করতে অবরোধ (Blockade) শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৮% বেড়ে গিয়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে এই অবরোধ তাদের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

শান্তি আলোচনার ব্যর্থতা:

পাকিস্তানে গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে শান্তি আলোচনা চলছিল তা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরান যদি দ্রুত সমঝোতায় না আসে, তবে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে সরাসরি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিবেন। এমনকি তিনি বলেছেন, “আমি একদিনেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারি।”

ক্ষয়ক্ষতি হিসাব:

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় তাদের দেশে প্রায় ৯৪২টি স্কুল এবং অসংখ্য হাসপাতাল ও কারখানার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে এই যুদ্ধে তাদের এখন পর্যন্ত প্রায় ১১.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং হামলায় অন্তত ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

লেবানন পরিস্থিতি:

ইরান ও ইসরায়েলের এই ছায়া যুদ্ধের প্রভাবে লেবাননেও ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। লেবানন সরকার একটি যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক মহলে আবেদন জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:

  • জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতারা: আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে “সংযম” প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু না হয়।
  • জি-৭: বিশ্বের শীর্ষ শক্তিশালী দেশগুলো এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।

আকাশসীমা ও বিমান চলাচল:

সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ যেমন জর্ডান, লেবানন এবং ইরাক সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল, যা বর্তমানে পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু হচ্ছে। তবে অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ওই অঞ্চলের ওপর দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা এড়িয়ে চলছে।

সাইবার যুদ্ধ:

খবরের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যেই তীব্র সাইবার হামলা চলছে। বিভিন্ন সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হ্যাকাররা সক্রিয় রয়েছে।

সার্বিকভাবে, ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ২ সপ্তাহের নামমাত্র যুদ্ধবিরতি এখন চরম হুমকির মুখে এবং যেকোনো সময় সরাসরি সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।বর্তমানে আকাশপথে সংঘর্ষ সীমাবদ্ধ থাকলেও, অদূর ভবিষ্যতে স্থলযুদ্ধের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদক-
জুবায়ের হোসেন তাসিন
তেজগাঁও কলেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *