খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ, অশোভন বার্তা পাঠানো এবং আচরণগত অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র কাজ শুরু করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এক শিক্ষার্থী লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, শুরুতে অভিযুক্ত শিক্ষক স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করলেও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে থাকেন। এসব বার্তার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিব্রত ও নিরাপত্তাহীন বোধ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিষয়টি শুধু একজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একই ডিসিপ্লিনের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও অতীতে বিভিন্ন সময় অনুরূপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, আপত্তিকর মন্তব্য, ব্যক্তিগত প্রশ্ন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের কারণে অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকলেও শেষ পর্যন্ত সহপাঠীদের সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার মতে, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো শিক্ষার্থী যেন একই অভিজ্ঞতার শিকার না হন, সেজন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রয়োজন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ ঘটনায় তিনি আইনগত পদক্ষেপও নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।
এদিকে অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি সব পক্ষের বক্তব্য, তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।













Leave a Reply