মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বরং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নতুন করে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আজ সকালেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মার্কিন হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সাময়িক সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মার্কিন হামলার দাবি
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার (১ জুন) ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত কয়েকটি রাডার ও ড্রোন ঘাঁটিতে ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম দাবি করে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন বাহিনীর একটি এমকিউ-১ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক নজরদারি ও ড্রোন সক্ষমতা দুর্বল করা।
পাল্টা হামলার দাবি আইআরজিসির
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাবে তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন হামলার কিছু সময় পর তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্সের ইউনিট সেই বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়, যেখান থেকে আক্রমণটি পরিচালিত হয়েছিল বলে তারা মনে করে। অভিযানে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই বিমানঘাঁটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেনি আইআরজিসি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ইরানের পাল্টা হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নতুন করে উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উত্তেজনা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বিশ্ব নেতারা।














Leave a Reply