বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের আওতায় মূল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি ধাপে ধাপে বিভিন্ন ভাতাও সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, তিন ধাপে এই কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাই থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।
শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২৬ হাজারের বেশি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৪ লাখ ৭৯ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী নতুন বেতন সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
দীর্ঘদিন ধরেই বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক চাপের কথা জানিয়ে আসছিলেন। এ অবস্থায় নতুন বেতন কাঠামো তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের মহাসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী আশা প্রকাশ করেছেন যে, আসন্ন বাজেটে সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এদিকে আগামী ১ জুলাই থেকে বাড়িভাড়া ভাতাও দ্বিতীয় ধাপে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া সাড়ে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে আরও সাড়ে ৭ শতাংশ যোগ হলে মোট বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশে পৌঁছাবে। এতে সর্বনিম্ন ভাতার পরিমাণ হবে ২ হাজার টাকা।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি পর্যায়ে মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এটি কার্যকর হলে চতুর্থ গ্রেডভুক্ত অধ্যক্ষদের মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। একইভাবে ষষ্ঠ ও সপ্তম গ্রেডের সহকারী অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের বেতনও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া নবম গ্রেডের প্রভাষকদের বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার টাকা এবং দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ৫০ শতাংশ অথবা ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দুটি আলাদা প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান-এর নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছরে বর্ধিত মূল বেতনের অর্ধেক সুবিধা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় বছরে পুরো বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং তৃতীয় বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা সম্পূর্ণভাবে সমন্বয় করা হবে।













Leave a Reply