জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশ

দ্বিতীয়বারের মতো প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার এর পতন ঘটে এবং এরই মাঝে সূচনা হয় এক নতুন বাংলাদেশের যাকে আমরা জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশ হিসেবে আখ্যায়িত করি।

১. জুলাই এর সূচনা কেন হয়েছিল : জুলাই আন্দোলন এর শুরু হয়ছিল কোটা সংস্কার এর মধ্যে দিয়ে। যা পরবর্তীতে রুপ নিয়েছিল সরকার বিরোধী বড় আন্দোলনে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। 

জুলাই আন্দোলন এর সূচনা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে এটি বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ এবং রাজনৈতিক সংগঠন গুলোর মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র আকার ধারণ করে।

২০২৪ সালের ১ লা জুলাই দীর্ঘ ১ মাসের প্রচেষ্টায় সংগ্রামীদের বিভিন্ন আত্নত্যাগের মধ্য দিয়ে ৫ ই আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশ দ্বিতীয় বারের মতো স্বাধীন হয়।

২. আন্দোলন পরবর্তী চিত্র : আন্দোলন পরবর্তী সময়ে দেশে দেখা দেয় রাজনৈতিক অস্থিরতা , শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রভাব। এরই মধ্যে ৮ ই আগস্ট অন্তবর্তী সরকার গঠন করা হয়। সে সময় সরকারবিহীন একটি দেশে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে অন্তবর্তী সরকারের ভুমিকা ছিল অপরিসীম। দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করা, প্রশাসনিক কাজ চালু করা, রাজনৈতিক রুপান্তর পরিচালনা , জনগনের আস্থা ফিরিয়ে আনা ইত্যাদি। এসব কাজের মধ্যে দিয়ে অন্তবর্তী সরকার প্রধান ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস জনগণের ওপর অনেকটাই প্রভাব সৃষ্টি করেছিলেন। এবং তারই নেতৃত্বাধীনে বাংলাদেশে ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন গঠিত হয়। এই নির্বাচন এর প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল( বিএনপি ) ও বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী সহ অন্যান্য জোট। এবং নতুন একটি দলের উন্মোচন হয় যা জাতীয় নাগরিক পার্টি তথা এনসিপি নামপ পরিচিত।

৩. নির্বাচন এর ফলাফল : ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি ) নিরুঙ্কুশ জয় লাভ করে। প্রায় দুই দশক পর দলটি এই নির্বাচন এর মাধ্যমে পূণরায় ক্ষমতায় আসে।

৪. নির্বাচন এর পরবর্তী চিত্র : নির্বাচন এর পরবর্তী সময়ে যা দেশের পরিবেশ কে দূষিত করছে তা রাজনৈতিক অস্থিরতা। এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত দু’টি দলের মধ্যে( বিএনপি ), ( জামায়াত ) অস্থিরতা বেড়েই চলছে। যা সাধারণ জনগণের মধ্যে আশঙ্কা তৈরী করছে।

এছাড়া আওয়ামী সরকার এর সংগঠন ছাত্রলীগের এর কার্যক্রম কমে যাওয়ায় তা দলটির মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী সরকার কখনো আর দল নিয়ে সোচ্চার হতে পারবে কিনা তা যেমন লক্ষণীয় বিষয়। 

তেমনি ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবির এর মাঝে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তা দেশের মানুষ কে ভিন্ন মত এবং পক্ষে নিমজ্জিত করছে যা দেশের শৃঙ্খলা ও শান্তি বিনষ্ট করছে যা কখনোই কাম্য নয়। আমরা জুলাই পরবর্তী এমন বাংলাদেশ চাই নি।

উপসংহার : বাংলাদেশ কে নতুন ভাবে নতুন ভাবে গড়ে তুলতে হলে দরকার ঐক্যবদ্ধতা। তাই শুধু দল বা ব্যাক্তি স্বার্থ বাদ দিয়ে নতুন ভাবে ভাবুন নতুন বাঁচুন।

© Ratna Akter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *